"জুলাই পুনর্জাগরণ একটি আত্মদানের ইতিহাস, একটি সাহসিকতার অধ্যায়।"
মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’ অনুষ্ঠান। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই আয়োজনে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে জুলাই-চেতনা জাগরণ বিষয়ক পাঁচটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। শিক্ষার্থীরা গভীর মনোযোগের সঙ্গে প্রামাণ্যচিত্রগুলো উপভোগ করে এবং এর মাধ্যমে নতুন প্রেরণা পেয়ে দেশ গঠনে উদ্বুদ্ধ হয়।
অনুষ্ঠানটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম (অব.)। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “এই আয়োজন কেবল ইতিহাস জানার সুযোগ নয়, বরং দেশপ্রেম, আত্মাহুতি, রাষ্ট্র গড়ার এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
জুলাই মানে শুধু একটি তারিখ নয় —
জুলাই এক চেতনার নাম, এক বিপ্লবের আগুন, এক জাতির ঘুম ভাঙার ডাক।
এই মাসেই দেশের ছাত্র-জনতা, শ্রমজীবী মানুষ, এমনকি একজন রিকশাচালকও বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন ফ্যাসিস্ট শাসকের বিরুদ্ধে। হাতে ছিল না অস্ত্র — ছিল সাহস, ছিল চেতনা, ছিল মানুষের জন্য ভালোবাসা।
জুলাইয়ের শহীদরা আমাদের কাছে কেবল নাম নয় — তারা আমাদের চেতনাপুঞ্জ।
শহীদ আবু সাঈদ — বুকের মাঝখানে গুলি নিয়েও মাথা নত করেননি।
শহীদ মুগ্ধ — রক্তাক্ত রাজপথে শেষ নিঃশ্বাস নিয়েছিলেন মুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে।
শহীদ সৈকত — যিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়েছিলেন সাধারণ মানুষের অধিকারের জন্য।
আরও অনেকে — যাঁদের নাম আমরা জানি না, কিন্তু তাঁদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে আমাদের রাজপথ।
এই আন্দোলনে অবদান রেখেছেন — শিক্ষক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা, গার্মেন্টস শ্রমিক, কৃষক, এমনকি রাস্তায় রিকশা চালানো শ্রমজীবী মানুষও।
ফ্যাসিস্ট সরকার এই জনজোয়ার থামাতে চালিয়েছে অমানবিক নির্যাতন — গুলি, লাঠিচার্জ, গুম, রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে যাওয়া, রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল।
তবুও জনগণ পিছু হটেনি।
আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি আবু সাঈদ, মুগ্ধ, সৈকত এবং অগণিত শহীদদের, যারা গণতন্ত্রের আশায় মৃত্যুকে বরণ করেছেন।
জুলাই যোদ্ধাদের রক্ত বৃথা যাবে না।
এই চেতনা বাঁচিয়ে রাখবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
এই চেতনা আমাদের অস্ত্র, আমাদের ভবিষ্যৎ।
Monno City
Gilondo, Manikganj
+8801755-559045
+8801755-559188
office@misc.edu.bd